কোকিলা খাতুন নামের বছর ২৩শের এই মেয়েটিকে প্রথমে স্বামী সহ তাঁর পরিবারের লোকরা মিলে পাশবিক অত্যাচার, পরিবারের একের পর এক সদস্যদের দ্বারা শ্লীলতাহানি এরপর প্রাণে মারার চেষ্টা

কোকিলা খাতুন নামের বছর ২৩শের এই মেয়েটিকে প্রথমে স্বামী সহ তাঁর পরিবারের লোকরা মিলে পাশবিক  অত্যাচার, পরিবারের একের পর এক সদস্যদের দ্বারা শ্লীলতাহানি এরপর প্রাণে মারার চেষ্টা

মানবতার ভীত নাড়িয়ে দেওয়া এক ভয়ঙ্কর ঘটনা।

এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, এক লোমহর্ষক অবর্ণনীয় ঘটনা। মানবতার ভীত নাড়িয়ে দেওয়া এক ভয়ঙ্কর ঘটনা।  ঘটনাটি শুনলে যে কারো চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসবে। সম্পূর্ণ এই ঘটনাটি একটি নিরীহ মেয়েকে নিয়ে। কোকিলা খাতুন নামের বছর ২৩শের এই মেয়েটিকে প্রথমে স্বামী সহ তাঁর পরিবারের লোকরা মিলে পাশবিক  অত্যাচার, পরিবারের একের পর এক সদস্যদের দ্বারা শ্লীলতাহানি এরপর প্রাণে মারার চেষ্টা এবং শেষমেষ প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে ঘর থেকে বের করে বদরপুর রেলষ্টেশনে এনে ছেড়ে দিয়ে  পালিয়ে যাওয়া। এই ঘটনায় সমস্ত বদরপুরজুড়ে চ্যাঞ্জল্য দেখা দিয়েছে। সমগ্র এই ঘটনাটি শুনে রেল পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয়রা মেয়েটির পক্ষে দাঁড়িয়ে  এই নরপশুদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এগিয়ে আসেন বদরপুরের সমাজকর্মী মনসুর আলম সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা। তাঁরা মেয়েটির সমস্ত বিবরণ শুনে মেয়েটিকে নিয়ে বদরপুর থানায় হাজির হন। সেখানে সমস্ত ঘটনা উল্লেখ করে এই নরপশুদের বিরুদ্ধে বদরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। বদরপুর পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি বদরপুরের না হলেও সমগ্র এ্ই ঘটনাকে কেন্দ্র করে  রেলশহর বদরপুরে হইচই ফেলে দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ মতে জানা যায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার দিনহাটার বছর ২৩র যুবতী মেয়েটি  বেঙ্গলোরে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতো।  সেখানে কাজে ছিলো করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি  কাবাডিবন্দের সামসুল হকের পুত্র রবিজুল হক ও। রবিজুল প্রথম থেকে বিবাহিত এই মেয়েটিকে টার্গেট করে নেয়।  মেয়েটির উপর কু নজর পড়ে রবিজুলের। সঙ্গে মেয়েটির বেতনের উপরও লোভ ছিলো রবিজুলের। মেয়েটি কোম্পানিতে মোটা অংকের মাইনে পাওয়ার কারণে রবিজুল মেয়েটিকে বাগে আনতে জোরদার চেষ্টা চালায়। মেয়েটিকে বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি তা প্রত্যাখ্যান করে।  আর এতে গিয়ে ক্ষেপে উঠে রবিজুল। হটাৎ করে একদিন কোকিলার একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে রবিজুল কোকিলাকে জোর করে  একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করে এবং তা ভিডিও করে রাখে।  পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি কোকিলার স্বামীকে পাঠিয়ে দিলে কোকিলাকে তালাক দিয়ে দেয় তার স্বামী। এতে মান সম্মানের ভয়ে শেষ পর্যন্ত কোকিলা বাধ্য হয়ে রবিজুলকে বিয়ে করে নেয়।  এরপর থেকে রবিজুল কোকিলার বেতন আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের টাকা দাবী করে কোকিলাকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে বাধ্য করে। গত দু'মাস পূর্বে লকডাউনের দোহাই দিয়ে রবিজুল কোকিলাকে তাঁর পাথারকান্দির বাড়িতে নিয়ে আসে। এখানে নিয়ে আসার পর কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক চললেও পরবর্তীতে শুরু হয় নির্যাতন। রবিজুল  সহ তার পরিবারের লোকরা সম্মিলিতভাবে কোকিলাকে পাশবিক নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে  শ্লীলতাহানি করতে পিছপা হননি তাঁরা। শুক্রবার কোকিলাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে রবিজুল তাঁকে  সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে দিয়ে আসবে বলে বদরপুর রেল ষ্টেশনে নিয়ে আসে।  কিন্তু ষ্টেশনে পৌঁছে কোকিলাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে ট্রেন ছাড়ার সময়  হটাৎ করে কেটে পড়ে রবিজুল।  আর কোকিলা তখন অসহায় হয়ে পড়লে কোনো অবস্থা না দেখে ট্রেনের চেন টেনে দিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়ে আর্তনাদ শুরু করে।  মূহুর্তের মধ্যে ষ্টেশনজুড়ে এক ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মেয়েটির করুন আর্তনাদে এগিয়ে আসেন বদরপুর রেলওয়ে পুলিশ সহ স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি থানা পর্য্যন্ত গড়ালে এনিয়ে মামলা হয়। বদরপুর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলে জানান বদরপুর থানার ওসি দীপক কুমার শইকিয়া।

LEAVE A COMMENT

Comment