"শষ্যের মধ্যে ভূত ” রেখে দলকে চাঙ্গা করার যাত্রা শিলচর জেলা কংগ্রেসের

"শষ্যের মধ্যে ভূত ” রেখে দলকে চাঙ্গা করার যাত্রা শিলচর জেলা কংগ্রেসের

“শস্যের মধ্যে ভূত ”এমন পরিস্থিতি যেন শিলচর জেলা কংগ্রেসে!কারণ দল বিরোধী অবস্থান নিয়ে এখনও বহাল তবিয়তে জেলা কংগ্রেসের মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন অনেকেই,আগাছাদের ছাঁটাই না হলে সিপিএম এর দশা হতে পারে শিলচর জেলা কংগ্রেসের এমন মত ব্যক্ত করেন অনেকেই উল্লেখ্য,সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী তথা শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব দলত্যাগ করে কুম্ভীরগ্রাম বিমানবন্দর হয়ে রেলী করে শিলচরে ফেরার পথেই,জেলা কংগ্রেসের অন্দরে শষ্যের মধ্যে ভূত যে রয়েছে তা আর লুকিয়ে থাকেনি। মুখোশধারী কংগ্রেসী নেতাদের পর্দা ফাঁস!এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড়। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ইতিমধ্যে সুস্মিতা দেব তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন।

এতে উনার ঘনিষ্ঠ জেলা কংগ্রেসের অনেক নেতা-কর্মীরা স্বেচ্ছায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।কিন্তু তাই বলে যে আর সুস্মিতা-র প্রতি আসক্ত লোক,কংগ্রেসের অন্দরে নেই?সেটা, বুকে হাত দিয়ে দলের নেতৃত্বরা বলবেন কিভাবে? কেননা, বুধবার কুম্ভীরগ্রাম বিমানবন্দরে সুস্মিতার সাথে দেখা করে সৌহার্দ্য বিনিময় করতে দেখা গেল জেলা কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এমন দু’জন নেতাকে। তারা হচ্ছেন জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অমিতাভ সেন ও বিগত বিধানসভা নির্বাচনে ধলাই বিধানসভা আসনে কংগ্রেস দলের টিকেট প্রত্যাশী কংগ্রেস নেতা হীরক দাস ।অথচ, সম্প্রতি সুস্মিতা দেবের দলত্যাগের পর শিলচর জেলা কংগ্রেসের ডাকে জেলা কংগ্রেস ভবনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।সেই সভায় দলকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হাতে নেওয়া হয়। সভা মঞ্চে উপস্থিত থাকা দলের তাবড় তাবড় নেতারা-ই  তৃণমূল নেত্রী সুস্মিতা দেব  শিলচরে পৌছতেই সৌহার্দ্য বিনিময়ের ভিডিও ভাইরাল হতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে!লক্ষণীয়, কিংবা কংগ্রেস দলের কাছে বিশেষ চিন্তার বিষয় দাঁড়িয়েছে। কেননা, সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেস নেত্রী সহ দলীয় কিছু নেতার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানে। কংগ্রেস সংগঠনের দুর্বলতা প্রশমন করে,দলকে আরও চাঙ্গা করার লক্ষ্যে নিয়েছে দল।এতে, একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।সাথে সমন্বয় রাখতে,প্রদেশ কংগ্রেসের অনুমোদন প্রাপ্ত যে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরমধ্যে রয়েছেন জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অমিতাভ সেন মহাশয়।অথচ, ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসে পাড়ি দেওয়া সুষ্মিতা'কে কুম্ভীরগ্রাম বিমানবন্দরে সৌহার্দ্য জানাতে

হীরক দাসে'র সাথে অমিতাভ বাবু'কে।এতে বিভিন্ন মহল তথা কংগ্রেস দলের নেতা-কর্মীদের মনে দুশ্চিন্তার ভাঁজ জন্মেছে। প্রশ্ন উঠছে, দলের মধ্যে এমন আগাছা  নেতাদের রেখে শিলচর জেলা কংগ্রেস সংগঠন রুখে দাঁড়াতে পারবে,না কালের কবলে শেষ হয়ে যাবে সংগঠন? এখানে, আরেকটি মজার বিষয় সামনে এসেছে,সুস্মিতা দেব তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে শিলচর জেলা কংগ্রেস  কার্যালয়ে আয়োজিত সেদিনের সভায় সুস্মিতা বিরোধী মন্তব্য নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।সুস্মিতা বিরোধী পরিচিত কংগ্রেস নেতা আনছার হোসেন বড়লস্করে'র সুষ্মিতা বিরোধী মন্তব্য নিয়ে যারা জ্বলে উঠেছিলেন। অনুশাসনের প্রশ্ন তুলেছিলেন। বাস্তবে,এরাই কতটুকু লেবেলদারী কংগ্রেসী? কিংবা, জেলা কংগ্রেসের পদ আঁকড়ে থাকা এমন কিছু লোক গোপনে সুস্মিতার সাথে সমন্বয় বজায় রেখে চলছেন।যারা,যেকোন সময় কংগ্রেস দলে মোক্ষম আঘাত হেনে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন।আর, এমন শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় কিভাবে? কেননা,উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক তথা আসাম প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কমলাক্ষ দেব পুরকায়স্থের উপস্থিতিতে শিলচর জেলা কংগ্রেসের যে সভা ছিল। সেখানে, কংগ্রেস নেতা আনছার হোসেন সুস্মিতা নিয়ে কটাক্ষ মন্তব্য করা নিয়ে যে বিরোধ উঠেছিল।এতে ক্ষেপে উঠাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হীরক দাস।মঞ্চে থেকে, সামান্য দলীয় কর্মীর মতো ক্ষোভে হম্বিতম্বি দেখালেও, দু'দিন পরে উনার আসল চিত্র সামনে এল।হীরক বাবু যে এসময় মুখোশধারী কংগ্রেসী হিসেবে থাকলেও, আড়ালে আদ্যেপ্রাণে সুস্মিতা ভজনে ব্যস্ত রয়েছেন!নয়তো, দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীরা যেখানে দলের অনুশাসন মেনে,সুস্মিতার প্রতি স্নেহভাব প্রকাশে ছুটেননি কুম্ভীরগ্রাম বিমানবন্দরে, সেখানে জেলা কংগ্রেসের পদে থেকে, সুস্মিতার প্রতি শুভেচ্ছা জানাতে হীরক, অমিতাভ যান কিভাবে? বিষয়টি, গুরুত্ব সহকারে দেখে প্রদেশ কংগ্রেস ব্যবস্থা  নেবে,না আস্তেআস্তে  কংগ্রেসীরা তৃণমূলে যোগদানের মধ্য দিয়ে শিলচর জেলা কংগ্রেস নিজের অস্তিত্ব হারানোর পথ ধরবে! এসময় এটাই দেখার বিষয়।এদিকে দলের অনুশাসন ভঙ্গের দায়ে অমিতাভ সেন ,হীরক দাস এবং বিজয় দেব রয় কে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে ।
 

LEAVE A COMMENT

Comment