দেশের প্রধান মন্ত্রী মাননীয় নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী , উপস্থিত হতেই এক বিরাট বিশাল আন্দোলন

দেশের প্রধান মন্ত্রী মাননীয় নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী , উপস্থিত হতেই  এক বিরাট বিশাল আন্দোলন

কাগজ কল ভিত্তি করেই আন্দোলন।


আসামের রাজ‍্যের বরাক উপত্যকায় , ১৮ মার্চ ২০২১ ইং বৃহস্পতিবার  করিমগঞ্জ( ভাটগ্রাম) মাঠে বিধান সভা নির্বাচনের বিজয় সংকল্প সমাবেশে পৌঁছতে না পৌঁছতেই ,  এক বিশাল আন্দোলন শুরু করেছেন  কাছার পেপার মিলের কর্মকর্তা সহ বরাক উপত্যকার জনসাধারণেরা ।

সাধারণ জনগণের প্রশ্ন .....
....কাগজ কল নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রতারণামূলক প্রতিশ্রুতি আর কত দিন.......?

গভীর উদ্বেগ ও অনুতাপের সহিত ইহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে বর্তমান কেন্দ্রীয় ও আসাম রাজ্যের বি জে পি সরকার কাছাড় ও নগাঁও কাগজ কলের উৎপাদন যথাক্রমে বিগত ২০.১০.২০১৫ ইং এবং ১৩.০৩.২০১৭ ইং তারিখে তাৎক্ষণিক ভাবে বন্ধ করে ঐ শিল্পগুলিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মরত লক্ষাধিক মানুষের বর্তমান ও ভবিষৎ কর্মজীবন তৎসঙ্গে আগামী প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ চিরতরে  ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পেপার মিলের কর্মকর্তারা সহ বরাক উপত্যকার মানুষরা । 
তাহারা শুধু তা নয় আরও অনেক বিষয় সমূহ তুলে বলেছেন।
দেশের প্রধানমন্ত্রী  মাননীয় নরেন্দ্র দামোদর  দাস মোদী একদিকে আত্মনির্ভরশীল ভারত গড়ার কথা বলছেন। ওপর দিকে আসাম রাজ্যের অতি লাভজনক ঐ কাগজ শিল্প গুলি বন্ধ করে স্বদেশী বাজারে কাগজের চাহিদা পূরণের জন্য চীন, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশ থেকে অধিক দামে কাগজ আমদানী করে কাগজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতকে একটি পরনির্ভরশীল দেশে পরিণত করছেন এবং কাগজ উৎপাদনকারী বেসরকারী শিল্পপতিদের অধিক মুনাফা অর্জনের অবাধ সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। 

প্রবল আন্দোলনের চাপে এবং ভোট প্রাপ্তির লক্ষে বিগত দিনে উভয় সরকার বন্ধ করে দেয়া ঐ দুটি কাগজ কল পুনরায় চালু করবে বলে বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু আজ পর্যন্ত ঐ সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সম্পূর্ণরূপে ওরা ব্যর্থ হচ্ছেন। যার ফলে অর্থাভাবে আজ অবধি ৮০ জন ভুক্তভোগী শ্রমিকের অকাল মৃত্যু তার মধ্যে ৪ জনের আত্মহত্যার ঘটনা সংঘটিত হওয়া সত্বেও কেন্দ্রীয় ও আসাম রাজ্য সরকার সম্পুর্ন বেআইনি ভাবে  বিগত ৪৯ মাস থেকে শ্রমিকদের বেতন আটকে রেখে এক অমানবিক নির্যাতনের নজীর সৃষ্টি করছেন যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়।

আসামের একমাত্র বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প কাছাড় ও নগাঁও কাগজ কল নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার সমেত বি জে পি দলের প্রতিশ্রুতি প্রদান কারী অনেক নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতা ও মিথ্যাচারিতা ধামাচাপা দিতে শাসক দলের একাংশ নেতৃবৃন্দ সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলছেন যে কাছাড় কাগজ কল না কি দুর্নীতির কারণে বন্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন্দ্রে ও রাজ্যে উনাদের ডাবল ইঞ্জিনের সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্বেও  আজ পর্য্যন্ত ওই শিল্পগুলো পুনঃ কার্য্যক্রম করে তুলতে পারেননি এবং সি বি আই, পুলিশ সহ অনেক তদন্তকারি সংস্থার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা সত্ত্বেও আজ অবধি তদন্তের মাধ্যমে কোনো একজন দোষীকে সনাক্ত করে শাস্তি প্রদানের সামান্যতম সৎ সাহস দেখাতে  সম্পূর্নরূপে ব্যর্থ হচ্ছেন যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ।

বরাকের বি জে পি নেতৃত্ব বিরোধী শিবিরে থাকাকালীন সময়ে কাগজ কল নিয়ে তৎকালিন শাসক দলের যে সব নেতৃত্বের প্রতি কাগজ কলের বিষয়ে আঙ্গুলি উঠাতেন পরবর্তী সময়ে দলীয় নীতি ও আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে সেই সব নেতাদেরকে ফুলমালা দিয়ে বরণ করে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিধায়ক পদে দলীয় টিকেট  প্রদান করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানোর  প্রচেষ্টা করছেন এবং কাগজ কল বন্ধের দায়ভার ভিত্তিহীন ভাবে নিরীহ শ্রমিক কর্মচারীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন যা অতি বিস্ময়কর ও নিন্দনীয়।

সেইমর্মে বর্তমান শাসক দলের নেতৃবৃন্দের কাছে নিন্মোক্ত দাবী গুলির সদুত্তর প্রদানের বিনম্র অনুরোধ রাখছি।

১. বি জে পি ক্ষমতায় আসার পর মুহূর্তে অতি সুকৌশলে তাৎক্ষণিক ভাবে কাছাড় ও নগাঁও কাগজ কল বন্ধ করে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নিয়ে বরাকের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ধ্বংস করা হলো কার স্বার্থে ? 

২. ঐ শিল্প গুলি ইচ্ছাকৃত বন্ধের আদেশ প্রদানের পিছনে কে বা কারা জড়িত এবং কাদের স্বার্থ রক্ষার্থে  এই অনাকাঙ্ক্ষিত বন্ধের সিদ্ধান্ত ?

৩. দেশের সংশ্লিষ্ট সমস্ত আইনকে উপেক্ষা করে বিগত ৪৯ মাস থেকে কাগজ কলের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন আটকে রেখে ৮০ জন শ্রমিককে অনাহারে, অর্ধাহারে ও বিনা চিকিৎসায় অকালে মৃত্যুবরণ ও আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হলো কার স্বার্থে?

৪. শ্রমিকদের প্রাপ্য আটকে রেখে তাদের পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের ভবিষৎ ধ্বংস করে "বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও" নারা দেওয়া হচ্ছে কার স্বার্থে?

৫. কাগজ কল একটি রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর প্রাপ্ত কর্মচারীদের প্রাপ্য বকেয়া (টার্মিনাল বেনিফিট) দীর্ঘ দিন থেকে আটকে রেখে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছে কেন?

৬. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি ও আসামের মূখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়াল বার বার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কাছাড় ও নগাঁও কাগজ কল চালু না করে কয়েক হাজার কোটি টাকার জনগণের সম্পদ চিরতরে ধ্বংস করে এই অঞ্চলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের পথ চিরতরে বন্ধ করা হচ্ছে কার স্বার্থে ?

৭. এইচ পি সি-র কর্মচারীদের বেতন প্রদানের লক্ষ্যে সংসদে অনুমোদিত ৯০ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী এইচ পি সি-তে সরকারের প্রদানকৃত ৪১৪১ কোটি টাকা কোথায় কি ভাবে উধাও হয়ে গেল?

৮. কাগজ কল বাঁচানোর আন্দোলনের সময় শাসক দলের একাংশ নেতৃবৃন্দ প্রায়ই বলে থাকেন যে অবাধ দুর্নীতির ফলে কাগজ কল বন্ধ হয়েছে কিন্তু উনারা ক্ষমতায় আসার দীর্ঘ্য দিন অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কি দুর্বলতার কারণে আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত বসান নি বা দোষী কে শাস্তি দেন নি?

পরিশেষে কেন্দ্রীয় ও আসামের রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো দাবী রাখছি যে কাগজ কলের শ্রমিক কর্মচরীদেরকে সরকারী যোজনার প্রলোভন না দিয়ে তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রদান করতে আগামী বিধান সভা নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাগজ কল দুটি চালু করে শ্রমিক কর্মচারীদের সমস্ত বকেয়া সমেত ৪৯ মাসের বেতন প্রদান এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুনিশ্চিত করতে এই সব অঞ্চলে আরও নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিহিত পদক্ষেপ গ্রহন করুণ। অন্যতায় দেশের জনগনের কাছে এই সরকার একটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী, মিথ্যাবাদী এবং প্রতারক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ঐ শিল্পের শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য নিজ নিজ এলাকায় ছাত্র যুবক কৃষক সহ সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাধ্য থাকবে তৎসঙ্গে জনতার আদালতে বিচার প্রার্থীও হবে। 

 

LEAVE A COMMENT

Comment