হাইলাকান্দিতে কৃষক মুক্তি এবং রাইজর দলের গণসত্যাগ্ৰহ আন্দলনকে মাঝপথে আটকে দিল পুলিশ।

হাইলাকান্দিতে কৃষক মুক্তি এবং রাইজর দলের গণসত্যাগ্ৰহ আন্দলনকে মাঝপথে আটকে দিল পুলিশ।

হাইলাকান্দিতে কৃষক মুক্তি এবং রাইজর দলের গণসত্যাগ্ৰহ আন্দলনকে মাঝপথে আটকে দিল পুলিশ।

 ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপুরণ প্রদান, জবকার্ডদারী শ্রমিকদের পারিশ্রমিক প্রদান সহ চার দফা দাবিতে রাইজর দল, কৃষক মুক্তি ও ছাত্র মুক্তি সংগ্রাম সমিতির গণসত্যাগ্রহ আন্দোলনে উত্তাল হল হাইলাকান্দি সদর। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রতিবাদকারীরা শহরের পুরানো হাসপাতাল পয়েন্টে জড়ো হয়ে মিছিল করে জেলাশাসকের কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতেই বাধা আরোপ করে হাইলাকান্দি পুলিশ। আর এতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। রাইজর দল, কৃষক মুক্তি ও ছাত্র মুক্তির কর্মীরা এখানেই বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পরিবেশ উত্তাল করে তোলেন। রাইজর দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন লস্কর, কৃষক মুক্তির জেলা সভাপতি শরিফ উদ্দিন মাঝারভূইয়া, ছাত্র মুক্তির কেন্দ্রীয় সহকারী সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন লস্করের নেতৃত্বে এদিন প্রতিবাদকারীরা হাইলাকান্দির পুলিশ-প্রশাসনের বিরোদ্ধে তাদের সামনেই ক্ষোভ ঝাড়েন। তারা বলেন, জেলার খেটে খাওয়া মানুষের মৌলিক সমস্যাবলী নিয়ে করা তাঁদের আন্দোলনে পুলিশের বাধা প্রদান দূর্ভাগ্যজনক। রাইজর দলের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন লস্কর এদিন তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন, ২০১৭-১৮ সনে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণের জন্য সরকার প্রায় ৪২কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও আজ পর্যন্ত ৮০শতাংশ মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা ডুকেনি। জেলাশাসকের অ্যাকাউন্টে থাকা ক্ষতিপূরণের টাকাগুলো কেন ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হচ্ছে না, এনিয়ে জেলাশাসকের স্পষ্টিকরণ দাবি করেন জহির উদ্দিন লস্কর। এদিকে, হাইলাকান্দি জেলার প্রত্যেকটি ব্লকে জবকার্ডদারী শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দীর্ঘদিন থেকে না দেওয়ায় ক্ষোভ ব্যক্ত করেন প্রতিবাদীরা। কৃষক মুক্তির জেলা সভাপতি শরিফ উদ্দিন মাঝারভূইয়া, ছাত্র মুক্তির নেতা ফরিদ উদ্দিন লস্কর জবকার্ডদারী শ্রমিকদের বঞ্চনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে শীঘ্রই পারিশ্রমিক প্রদানের দাবি জানান। বিশেষ করে কাটলিছড়া ব্লক ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে এমজিএনরেগা প্রকল্পের একটিও স্কীম অনুমোদন করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ তুলেন। রাইজর দল, কৃষক মুক্তি ও ছাত্র মুক্তির নেতৃবর্গরা ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন, ১০০দিনের কাজ পাওয়া প্রতিজন জবকার্ড হোল্ডারের সাংবিধানিক অধিকার। অথচ বিগত দেড় বছরে কাটলিছড়া ব্লকে একদিনেরও কাজ না দিয়ে জবকার্ডদারীদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হল কার ইশারায় বলেও প্রশ্ন তোলেন প্রতিবাদকারীরা। এদিকে, দক্ষিণ হাইলাকান্দি ব্লক, লালা ব্লক, হাইলকান্দি ব্লক ও আলগাপুর ব্লকে বিভিন্ন স্কীমে কাজ হলেও শ্রমিকরা তাদের পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাই অবিলম্বে জবকার্ড শ্রমিকদের পারিশ্রমিক প্রদানের দাবি জানান রাইজর দল, কৃষক মুক্তি ও ছাত্র মুক্তির নেতৃবর্গরা। 
এদিকে, জমির এনওসিতে চতুর সীমার মালিকদের স্বাক্ষর দেওয়া বাধ্যতামূলক করে জেলাশাসকের আচমকা সার্কুলারে জেলার জনগণ চরম বিপাকে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলেন, জেলাশাসকের এহেন আজগুবি সার্কুলারে হাজার হাজার এনওসি পড়ে রয়েছে। তাই এই সার্কুলার অতিসত্ত্বর প্রত্যাহার করারও দাবি জানান তারা। অন্যদিকে, পিএম কিষাণ যোজনার অষ্টম কিস্তি পাওয়ার পর হঠাৎ নবম কিস্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে জেলার হাজার হাজার প্রকৃত কৃষককে বলে অভিযোগ করে অবিলম্বে বাদ পড়া প্রকৃত কৃষকদের কৃষিভাতায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। এদিন, বিশাল পুলিশ-সিআরপিএফ বাহিনী ব্যারিকেডে জেলাশাসকের কার্যালয়ে যেতে পারেননি রাইজর দল, কৃষক মুক্তি ও ছাত্র মুক্তির কর্মীরা। শেষপর্যন্ত আন্দোলনস্থলে উপস্থিত ম্যাজিষ্ট্রেট রঘুরাজ বৈদ্যের হাতে জেলাশাসকের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকপত্র দিয়ে গণসত্যাগ্রহ আন্দোলন শেষ করতে হয়। এদিনের আন্দোলনে অন্যদের মধ্যে সামিল ছিলেন কৃষক মুক্তির জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হুসেন মজুমদার,ছবির আহমদ লস্কর, সম্পাদক আজহারুল হক লস্কর, রাইজর দলের জেলা সমিতির কার্যকরী সভাপতি হিমাংশু গোস্বামী, সাবুল হোসেন লস্কর, সম্পাদক সাদ আহমদ চৌধুরী, কার্যালয় সম্পাদক হাসান আহমদ লস্কর, উপসভাপতি লুৎফুর রহমান, ছাত্র মুক্তির জেলা সভাপতি আকমল হোসেন লস্কর, জহিরুল ইসলাম মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম বড়ভূইয়া প্রমূখ।

LEAVE A COMMENT

Comment