হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে কি? মেয়েরা যে লক্ষণ দেখে বুঝবেন.

হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে কি? মেয়েরা যে লক্ষণ দেখে বুঝবেন.

হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে কি? মেয়েরা যে লক্ষণ দেখে বুঝবেন.

মেয়েদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানারকমের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সেই কারণ গুলির মধ্যে একটি হল হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকা। মেয়েদের শরীরে হরমোন পরিবর্তনের অনেক রকমের লক্ষণ দেখা যায়। বিশেষ করে চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা যায়। রাতে গরম লাগা, হঠাৎ ঘাম, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, কালো ছোপ, খিটখিটে মেজাজ। তাই কোন কোন লক্ষণগুলি দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন দেখে নিন। শরীরে হাজারো জটিল কাজকর্ম চলে। এর জন্য কে কার খবর রাখে। সবই হয় আমাদের হরমোনের কল্যাণে। আমাদের দেহের ভিতরে রয়েছে অন্তক্ষরা গ্রন্থি, এগুলো থেকেই হরমোন নিঃসরণ হয়। খিদে বা পেশির গঠন— সবকিছুতেই কিন্তু হরমোনের প্রয়োজন হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে বিভিন্ন কারণে মেয়েদের মধ্যে হরমোনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অবশ্য কয়েকটা লক্ষণের দ্বারা ভালো ভাবে বোঝা সম্ভব। কারণ হরমোনের গণ্ডগোলের জেরেই কিন্তু বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ব্যহত হওয়ার পিছনে কিন্তু গুরুতর কোনও সমস্যা থাকতে পারে। অনেকেরই হঠাৎ করে ওজন বেড়ে যেতে পারে,ব্রণ, মা হওয়া পর মেয়েদের চুল উঠে যাওয়া বা হঠাৎ থুতনি বা ঠোঁটের ওপর ঘন লোম—এসবের পিছনে রয়েছে হরমোন। বিশেষ করে নিচে উল্লিখিত কয়েকটি লক্ষণ দেখা গেলেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটাই ভালো। তাই আপনারও যদি এই সব উপসর্গ দেখা দেয়, এখনই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে যে রাসায়নিক বের হয়। তা রক্তের মাধ্যমে আমাদের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে যায়। যার ফলেই খিদে, ঘুম, টানটান ত্বক, মুড ভালো রাখে। কিন্তু কোনও বড় অসুখের কারণে এই অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরণ কম বা বেশি মাত্রায় রক্তে মিশে যায়। ফলে তখনই রোগে ধরে আর তখনই চিকিৎসকরা বলেন হরমোন লেভেল ঠিক নেই। বসাদের অনেক কারণ থাকতে পারে। কেবল ক্লান্তি মনে করে একে উড়িয়ে দেবেন না। সারা সপ্তাহ ধরে অফিসের কাজ বা পড়াশোনার ধকলের পড়লে ক্লান্ত থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু সারাক্ষণই ক্লান্ত থাকা এবং তার পাশাপাশি ওজন বেড়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এমনকি অনেকের রুচির পরিবর্তন বা প্রায়শই বদহজম দেখা দিলে আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া কোনও কারণ ছাড়া সবসময় নিজেকে ক্লান্ত মনে হলে চিকিৎসককে অবশ্যই জানান।

 

রাতে ভালো ঘুমই হরমোন লেভেলকে বিপন্মুক্ত রাখার জন্য ভালো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু পেশার খাতিরে অনেকেই রাত জেগে কাজ করেন। তাঁদের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে হবে। শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ঘুম খুবই প্রয়োজন। ঘুম ঠিকমতো না হলে অনেক রকম সমস্যা হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি বোধ,এসব তো থাকেই। ঘুম যদি ভালো না হয় তখন আমাদের হরমোন গুলো ঠিকমতো কাজ করে না। আর সেই প্রভাব পড়ে শরীরের নানা ক্রিয়াকলাপেও। পর্যাপ্ত যত্ন নেওয়ার পরেও যদি রোজ মুঠো মুঠো চুল পড়তে থাকে তবে অবশ্যই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। হরমোনের ভারসাম্য হারিয়ে গেলেও অনেক সময় এই ঘটনা ঘটে। মেয়েদের হরমোনের ব্যালান্স বিগড়োলে এই পরিবর্তনটি দেখা যায়। হরমোনের কারণে ব্রেস্টে কিছু কিছু পরিবর্তন দেখা যায় যেমন ব্রেস্টে মাঝে মাঝে ব্যাথা অনুভব করা কিংবা ব্রেস্ট নিচের দিকে নেমে আসা কিংবা লাম্প অনুভব করা - যে কোনোটাই কিন্তু হরমোনাল ইম্ব্যালান্সের (hormonal imbalance)উপসর্গ হতে পারে। তলপেটে আলতো অথচ একনাগাড়ে ব্যথা, মাথা ধরা, মুড অফ বা হঠাৎ রেগে যাওয়া— এমন সব উপসর্গকে একেবারেই অবহেলা করবেন না, চিকিৎসককে জানান। এগুলি হরমোন লেভেল ঠিক না থাকার লক্ষণ।

LEAVE A COMMENT

Comment